Saturday, January 5, 2013



গ্রীন টি বা সবুজ চা। জাপানি ভাষায় এটাকে বলা হয় "ওচা"! এটা মানুষের স্বাস্হ্যর জন্য উপকারি একটি চা পাতা। ৪০০০ বছর পূর্ব চায়নাতে মাথা ব্যাথার ঔষধ হিসাবে এটার ব্যাবহার কার্য শুরু হয়। এরপর সময়ের ব্যাবধানে চায়না, জাপান, কোরিয়া সহ পশ্চিমেতেও এর ব্যাপক প্রচলন শুরু হয়।

পশ্চিম ও এশিয়ার গবেষকরা গ্রীন টি এর মধ্য অনেক রোগের ঔষধ অবিস্কার করেন। ১৯৯৪ সালে Journal of the National Cancer Institute প্রকাশিত একটা Journal এ বলা হয় , সবুজ চা পানে ৬০% চাইনিজদের esophageal cancer দুর করা সম্ভব হয়েছে। University of Purdue এর গবেষকরা আবিস্কার করেন সবুজ চা cancer cells প্রজনন প্রতিরোধ করে। আরো অন্যান্য গবেষনায় জানা যায়, সবুজ চা শরিরের টোটাল কোলেসটোরেল লেভেলের উন্নতি হয়। সবুজ চা এর প্রধান ক্যারিশমাটা হলো এর একটা উপাদান epigallocatechin gallate (EGCG) যাহা একটি powerful anti-oxidant। EGCG কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়াই শরিরের cancer cells প্রজনন ক্ষমটা একদম নষ্ট করে ফেলে। সবুজ চা পাতার উপর গবেষনা থেকে প্রাপ্ত কিছু ফলাফল সংক্ষিপ্ত আকারে নিম্নে প্রদত্ত হলো:
১। Cancer প্রতিরোধ করে।
২।Alzheimer’s বা মেমরি লস এবং Parkinson’s বা ধিরগতি জন্য উপকারি।
৩। Heart diseases and Heart attacks এর risk কমায়।
৪। রক্তে এ cholesterol এর মাত্রা কমায়।
৫। Improves the ratio of good cholesterol to bad cholesterol
৬। Cardiovascular disease এর risk কমায়।
৭। Infection কার্যকর হওয়ার রিস্ক কমায়।
৮। কিডনি রোগের জন্য উপকারি।
৯। ডায়াবেটিকস এর জন্য উপকারি।

Camellia Sinensis পাতাকে বিশেষ প্রক্রিয়াজাত করে গ্রীন টি বা সবুজ চা উৎপাদন করা হয়। নিচে Camellia Sinensis পাতা থেকে সবুজ চা তৈয়ারি করার প্রক্রিয়া প্রদত্ত হলো:


ছবি ২: Camellia Sinensis পাতা থেকে চা তৈয়ারি প্রক্রিয়া।

ঠিক ব্লাক টি (আমরা যেটা খাই) এর মত। কিন্তূ প্রক্রিয়াটা এক পর্যায়ে এসে আলাদা হয় (২ নং ছবিতে দেখুন)। এটার সামান্য একটা দূর্বল দিক হলো, এটাতে সামন্য পরিমানে একটু caffeine থাকে যা ব্লাক টি এর caffeine এর মত শরিরের জন্য এত মারাত্বক বা ক্ষতিকর না। তবে এর রোগ প্রতিরোধের কার্যকারিতার দিকে তাকালে অনায়াসেই এই দূর্বলতা বাদ দেয়া যায়।

আমার ব্যাক্তিগত গবেষনায় ডায়াবেটিকস (আমি নিজে), গ্যাষ্টিক (আমার বাবা), কষ্ঠকাঠিন্য (বন্ধু) ও ইউরিন ইনফেকশনের রোগির (আমার ছোট ভাই) উপর গবেষনা চালিয়ে সবার কাছ থেকেই পসিটিভ রেজাল্ট পেয়েছি।



ছবি ৩: প্রক্রিয়াজাত সবুজ চা পাতা ।

আমার একবার কিডনিতে পাথর ধরা পরে। পরে ESWL ব্যাবহার করে পাথর অপসারন করা হয়। যার ফল স্বরুপ শরিরে ডায়াবেটিকস ধরা পড়ে। জাপানি ডাক্তার কোন ঔষধ না দিয়ে দিনে ৩/৪ লিটার সবুজ চা খাওয়ার পরামর্শ দেন। কিছু দিন পর টেষ্ট করে দেখি রেজাল্ট পজিটিভ, মানে ডায়াবেটিস আর নাই। এখন নিয়মিত প্রতিদিন ৪/৫ লিটার সবুজ চা পান করি।

মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে আমি আমার বাবার উপর একটা ইকসপেরিমেন্ট চালাই। উনি অনেক বছর ধরে গ্যাসটিকে ভুগছিলেন। প্রতিদিন ওনাকে ৩/৪ লিটার ওচা খাওয়ার পরামর্শ দিলাম। মাত্র ১ সপ্তাহেই ওনার গ্যাসটিক শেষ। বর্তমনে উনি গ্যাসটিক থেকে মুক্ত।

কিডনি, ডায়াবেটিক্‌স ও ইউরিন ইনফিকশন রোগিদের জন্য দৈনিক সাধারনত ৩ লিটার পানি খেতে ডাক্তাররা পরামর্শ দেন। আমার পরামর্শ হলো, ৩ লিটার পরিমান গরম পানিতে কিছু পরিমান সবুজ চা পাতা বা একটা সবুজ টি প্যাকেট ছাড়িয়ে দিন। পানি ঠান্ডা হলে প্রটি ২ ঘন্টায় ১ গ্লাস করে পানি পান করুন। এই ভাবে দিনে ১২ গ্লাস পানি শরিরের জন্য বেশ উপকারি বিশেষ করে কিডনি, ডায়াবেটিকর্স ও ইউরিন ইনফেকশনের রোগিদের জন্য। তবে, সাধারন লোকদের জন্য আমার পরামর্শ হলো, দৈনিক ৪ গ্লাস বা ১ লি. শরিরের জন্য খুবই উপকারি হবে এবং আপনার শরিরের অনেক রোগ প্রতিরোধ করবে। বেশি করে সবুজ চা পান করুন স্বাস্হ্য ভালো রাখুন!!

বাংলাদেশের বড় যে কোন ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে ইহা পাওয়া যেতে পারে।

....................................................................................
পরবর্তি আর্টিক্যাল :
১। সবুজ শ্যাওলা (জ্বলজ উদ্ভিদ): ভবিষ্যত প্রজন্মের ফুড বা সুপার নিউট্রেশন ফুড।
২। সামুদ্রিক লাল শ্যাওলা (নরি): জাপানিজ সি ভেজিটেবল। একটি প্রোটিন ফুড।
৩। ফটো সেন্সর, হাই স্পিড কমিউনিকেশন ক্যামেরা, রোবোট আই ও বায়োমেডিক্যাল সেন্সরের আর্কিটেকচার ও এর অ্যাপলিকেশন।
৪। প্রস্তাবিত ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য ও একটি সুপার ডিজিটাল ডাটাবেজ মডেল।
৫।বাংলাদেশের গ্রামীন অর্থনীতি উন্নয়নে বা দরিদ্র বিমোচনে যাকাতের প্রভাব ও এর বাস্তব প্রয়োগ।









প্রায় ৪০০০ বছর আগে থেকেই চীনে ওষধ হিসাবে ব্যাবহার করা হচ্ছে সবুজ চা বা গ্রিন টি। সময়ের পরিবর্তনে গ্রিন টির ব্যবহার চীনের বাইরে পুরো বিশ্বেই ছড়িয়ে পড়েছে।
গবেষকরা গ্রিন টি’র মধ্যে খুঁজে পেয়েছেন অনেক রোগের নিরাময় গুণ। নিয়মিত সবুজ চা পান করলে, ক্যান্সারের মতো জটিল রোগের ঝুঁকিও অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
***আমাদের শরীরের জন্য সবুজ চা পানের উপকারিতা**
*ক্যান্সার প্রতিরোধ করে
*হার্ট অ্যাটাক এর ঝুঁকি কমায়
*রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়
*উপকারি কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়ায়
*সবুজ চা ভাইরাসজনিত ফ্লু রোধ করে বা দ্রুত সেরে উঠতে সাহায্য করে
*বার্ধক্য রোধ করে শরীরকে সুস্থ ও সুন্দর রাখে
*ইনফেকশান কার্যকর হওয়ার ঝুকি কমায়
*কিডনি রোগের জন্য উপকারি
*ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর
*দাঁতক্ষয় এবং পেটের রোগ সারাতে গ্রিন টি কাজ করে।
***নিয়মিত পরিমিত সবুজ চা পান করুন। অনাকাংক্ষিত অনেক রোগের ঝুঁকি থেকে নিজেকে মুক্ত রাখুন।

স্বাস্থ্য রক্ষা 'চা'

Posted by sofiq | 12:47 AM Categories:


চা আমরা সবাই কম বেশি পান করি,কিন্তু এর উপকারির কথা জানি কি?চা নিয়ে কিছু কথা আজ শেয়ার করলাম আপনাদের সাথে......আশা করি ভাল লাগবে।
চা মূলত ক্যামেলিয়া সিনেনসিন উদ্ভিদের পাতা, পর্ব ও মুকুলের কৃষিজাত পণ্য যা বিভিন্ন উপায়ে প্রস্তুত করা হয়। এছাড়া “চা” ...বলতে এক ধরণের সুগন্ধযুক্ত ও স্বাদবিশিষ্ট পানীয়কেও বোঝানো হয়। চা’র নামকরণ করা হয় গ্রীকদেবী ‘থিয়া’ (Thea) এর নামানুসারে। এর জন্মস্থান চীনদেশে। চা’র বৈজ্ঞানিক নাম Thea Sinensis I Camellia Sinensis। চা Theaceae পরিবারের সদস্য। চা প্রধানত ৩ ধরনের যথা-দুধ চা,সবুজ চা ও লেবু চা।( লেবু চা বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন নাম এ পরিচিত)। এছাড়া ও আর ও কিছু রকম চা আছে। আমাদের দেশ এ এগুলা জনপ্রিয় নয়।
দুধ চাঃ

ক্লান্তিতে খুবই কার্যকরী হতে পারে। তাই জানা থাকলেও আসুন জেনে নেই কিভাবে সহজে সতেজ হওয়ার দরকারী এক কাপ চা বানানো যেতে পারে।
প্রথমে পানি গরম করতে হবে।পানি ফুটতে শুরু করলে চুলা নিভিয়ে ফেলতে হবে।গরম পানিতে প্রয়োজন মত চা পাতা ঢেলে ৩-৪ মিনিট অপেক্ষা করুন।
এবার প্রয়োজন মত দুধ ও  চিনি মিশিয়ে পান করতে পারেন।এটাই হবে শরীরকে সতেজ (সাময়িক) করার সত্যিকারের কার্যকরী চা।
নিয়মিত চা ও কফি পানে কমে হৃদরোগের ঝুঁকি। দেখা গেছে চা বা কফি হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ৫ গুণ কমিয়ে দেয়। এছাড়া এ সময় স্ট্রোকের কারণে মৃত্যুর ঝুঁকিও বাড়েনা বলে সম্প্রতি এক গবেষণায় পাওয়া গেছে। নেদারল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের গবেষকরা এ গবেষণাটি করেন। তারা বলেন, কফির চেয়ে চা-ই বেশি উপকারী। দিনে ৬ কাপ চা পানে করোনারি সমস্যার ঝুঁকি প্রায় ৪৫ শতাংশ কমে যায়। এদিকে দিনে ২ কাপ কফি পানের অভ্যাস হৃদরোগের ঝুঁকি ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা দুটি পানীয় অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরের ফ্রি র‌্যাডিকেল কমিয়ে দেয়। গবেষণার ফলাফল জার্নাল অফ অ্যামেরিকান হার্ট ফাউন্ডেশনে প্রকাশিত হয়।

খেতে পারেন গ্রিন টীঃ

গ্রীন টি -এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলেছে৷ বিশেষ করে স্বাস্হ্য সচেতন মানুষদের কাছে৷ আর এই চায়ের প্রতি এই প্রজন্মের ছেলে মেয়েদেরও  বেশ আগ্রহ দেখা যাচ্ছে ৷ বলা যায় ফিগার ঠিক রাখতে অনেকেই এই গ্রীন টি-এর প্রতি বেশি ঝুঁকছেন৷
গ্রীন টি প্রথমে ছিলো ওষুধ  তারপর পানীয়তে পরিণত  হয়েছে৷ গ্রীন টির রয়েছে নানা গুণ- নিয়মিত এই চা পানে শরীরে ভালোভাবে রক্ত চলাচল করে৷   পেট পরিষ্কার থাকে  আর  মস্তিষ্ককে রাখে সচল ৷ এই চা কেবল পিপাসাই মেটায় না  দূর করে ক্লান্তি ৷  এই তথ্যগুলো বিভিন্ন গবেষণার মধ্যে দিয়ে বেরিয়ে এসেছে৷
জাপানের একটি গবেষণায় দেখা গেছে  যারা দিনে দুই কাপের বেশি গ্রীন টি পান করেন তারা মানসিকভাবে অনেক বেশি ফিট৷ গবেশক্রা একথাও বলেছেন যে যারা শারিরিক এবং মানসিকভাবে ফিট তাদের জন্য গ্রীন টি বেশি উপকারে আসে৷ গ্রীন টি  ইমিউন সিস্টেমকে আরো শক্তিশালী করে৷ তবে এই চা নিয়মিত পান করতে হবে৷ এতে রয়েছে ভিটামিন এ, ই , সি , ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ছাড়াও বিভিন্ন মিনারেল যা প্রতিটি মানুষের শরীরেই প্রয়োজন ৷ স্বাস্হ্য ঠিক রাখতে সাহায্য তো করেই এমনকি  নিয়মিত এই চা পান মানুষের আয়ু বাড়াতেও ভূমিকা রাখে৷ গ্রীন টি তৈরি করতে  কেতলীতে  কতটুকু পাতা দিতে হবে৷ ফুটন্ত পানির টেম্পারেচার কত হবে, চায়ের পাতা কতক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে এসব নিয়মাবলী চায়ের প্যাকেটের গায়ে  লেখা থাকে বা সাথে দেয়া হয় নিয়মাবলী পুস্তিকা ৷ উন্নতমানের  এই ব্যয়বহুল চা শুধুমাত্র সৌখিন মানুষদের পক্ষেই পান করা সম্ভব৷  তবে সাধারণ মানের গ্রীন টি  আজকাল প্রায় প্রতিটি সুপার মার্কেটেই পাওয়া যায়৷নিয়মিত গ্রীন টি পানে মানুষের   ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকিও  কিছুটা  কমিয়ে দেয়৷
সবুজ চা পাতার আরও কিছু উপকারিতা:
১. কিডনি রোগের জন্য উপকারী।
২. হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়।
৩. পোকামাকড় কামড়ালে যদি ওই স্থান চুলকায় ও ফুলে যায় তাহলে সবুজ চায়ের পাতা দিয়ে ঢেকে দিলে আরাম বোধ হয়।
৪. রক্তে কোলেস্টোরেলের মাত্রা কমায়।
৫. ডায়াবেটিসের জন্য উপকারী।
৬. এর লিকার দাঁতের য়রোধ ও মাড়ি শক্ত করে।
৭. কাটা জায়গায় গ্রিন টির লিকার লাগালে রক্ত পড়া বন্ধ হয়।
আদা চাঃ

উপকরণ: পানি পরিমান্মত, এলাচি-খোসা ৪টা, থাই পাতা ২টা, আদাকুচি ১ টেবিল-চামচ, চিনি ৪-৫ চা-চামচ, মৌরি ১ চা-চামচ, দারচিনির গুঁড়া ১ চা-চামচ। চা-পাতা ৩-৫ চা-চামচ।
প্রণালী: বড় পাত্রে ওপরের সব উপকরণ (চা-পাতা ছাড়া) একসঙ্গে মিলিয়ে চুলায় দিয়ে ২-৩টা বলক তুলে নিতে হবে। এখন চা-পাতা দিয়ে নেড়ে আবার ২-৩টা বলক তুলে চুলা বন্ধ করে ঢেকে রাখতে হবে। পাঁচ মিনিট পর ছেঁকে গরম গরম পরিবেশন।
কেউ শখ করে খান আবার কারও অভ্যাস হয়ে গেছে আদা চায়ে। কাজের ফাঁকে, কখনো আড্ডায় দেদার চলে চা পর্ব। পথের ধারে গজিয়ে ওঠা ঝুপড়ি ঘরগুলোতেও অলস আর কর্মঠ মানুষ যখন চায়ের তৃষ্ণা মেটায়, তখন আদা চাকেই সঙ্গী করে। দুধ চায়ের তুলনায় আদা চা খানিকটা সস্তা বলে এই চায়ের বিক্রিবাট্টাও বেশি। আবার কারও ঘরে আনেক আয়োজনে যত্নে তৈরি করা হয় আদা চা। ঘরে কিংবা বাইরে শখ করে কিংবা অভ্যাসে যেমন করেই খাওয়া হোক না কেন, এই আদা চা কিন্তু ভারি উপকারী। হাতে হাতে ফল পেতে বমি ভাব হলে চেখে দেখতে পারেন আদা চা। বমি ভাব দূর হবে। সাধারণ সর্দি-কাশিতে ওষুধের বিকল্প হতে পারে আদা চা। গলাব্যথায় ধোঁয়া ওঠা গরম আদা চা খান বিরতি দিয়ে। সেরে যাবে গলাব্যথা। আর যাদের এসিডিটি আছে, নিয়ম করে দুই বেলা গাদা গাদা ওষুধ খাচ্ছেন। তাঁরাও মাঝেমধ্যে আদা চা খেয়ে দেখতে পারেন। এক গবেষণায় দেখা গেছে, এসিডিটির বিরুদ্ধে খুব ভালো লড়তে পারে আদা চা। হজমের সমস্যা মেটাতেও সেই আদা চা। আর শুধু আদা চা পানে কারও যদি অরুচি থাকে, তাহলে মিলিয়ে নিন খানিকটা লেবু। এবার ভালো লাগবেই।
চা পাতা মিশিয়ে পানি ফুটানো উচিত না তাতে চা পাতার কার্যকারিতা কমে যায়।
চা সম্পর্কে ভুল ধারণাঃ
চা সম্পকে আমাদের অনেকের ভুল ধারণা আছে। চা খেলে রাতে ঘুম আসেনা। চা লিভারের ক্ষতি করে। চা চামড়া কালো করে। এরকম অনেক ভুল ধারণা চা সম্পর্কে শোনা যায়। যদিও চা খেলে গায়ের রঙ কাল হবে না। কারণ ত্বকের রঙ নির্ভর করে ম্যালানোসাইট কোষের সক্রিয়তার উপর।চা কোনোভাবেই ম্যালানোসাইট ত্বকের চকচকে ভাবটা ধরে রাখার জন্য চা পালন করতে পারে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। চা পান করলে লিভারের কোন ক্ষতি হয়না । তবে এখানে মনে রাখতে হবে অতিরুক্ত পানকরলে উল্টো ফল, যেমন রাতে ঘুম কম হওয়া । অবসাদ আসতে পারে। কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে। তবে চা খেতে হবে লাল চা এতে চা এর উপকারিতা পাওয়া যাবে।
অনেক কিছু লিক্লাম,কিছু ভুল হলে ক্ষমা করে দিবেন।

Friday, January 4, 2013


শীতে নাক, কান ও গলা শরীরের এই তিনটি অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের রোগব্যাধি হতে পারে। সাধারণ হাঁচি-সর্দি থেকে শুরু করে গলার স্বর বসে যাওয়া, সবই রয়েছে এই তালিকায়। স্বল্পপরিসরে সেসব রোগের কয়েকটি সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হলো।

১. নাকের অ্যালার্জি: এটি অ্যালার্জিজনিত নাকের প্রদাহ। ধুলাবালি, ঠান্ডা-গরমসহ বিভিন্ন ধরনের অ্যালার্জি উদ্রেককারী উপাদান এর কারণ। রোগটি স্থায়ীভাবে নিরাময়যোগ্য না হলেও নিয়ন্ত্রণযোগ্য। ওষুধের ব্যবহার ও ঠান্ডা-অ্যালার্জি উদ্রেককারী উপাদান এড়িয়ে চলার মাধ্যমে এর চিকিৎসা করা যায়।
২. নাক দিয়ে রক্ত পড়া: নাক দিয়ে রক্ত পড়ার অনেক কারণ আছে। ছোটদের ক্ষেত্রে সাধারণত নাক খোঁটার কারণে নাকে ক্ষত হয়ে রক্তপাত হয়। বড়দের ক্ষেত্রে উচ্চরক্তচাপের কারণে নাক দিয়ে রক্ত ঝরে। শীতে নাকের ভেতরটা শুকিয়ে চামড়া উঠে যায় এবং তখন নাকের ঝিল্লি ছিঁড়ে গিয়ে নাক দিয়ে রক্ত পড়তে পারে।
৩. নাকের পলিপ: সাধারণত দীর্ঘদিন নাকে অ্যালার্জি থাকলে এমনটি হয়ে থাকে। নাকের মধ্যে মিউকাস ঝিল্লিগুলো ফুলে আঙুরের দানার মতো বিভিন্ন আয়তনের হয়ে থাকে। নাকের পলিপে নাক বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে সাইনাসের ইনফেকশন হয়ে মাথাব্যথা হতে পারে। এই সমস্যার জন্য অপারেশন করার দরকার পড়ে। সনাতন পদ্ধতির অপারেশনে আবার পলিপ দেখা দেওয়ার সুযোগ থাকে। কিন্তু আধুনিক এন্ডোস্কোপিক সার্জারির মাধ্যমে রোগটি নিরাময়ে প্রভূত সাফল্য এসেছে। প্রাথমিক অবস্থায় স্টেরয়েড স্প্রে ব্যবহার করে অবস্থা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। শীতে এ ধরনের সমস্যা একটু বেড়ে যায়।
৪. সাইনাসের ইনফেকশন: সাধারণত নাকে অ্যালার্জি ও পলিপ, নাকের হাড় বাঁকা ইত্যাদি কারণে নাকের দুই পাশের ম্যাক্সিলারি সাইনাসে ইনফেকশন দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে মাথাব্যথাই মূল উপসর্গ। সাইনাসের একটি এক্সরে করলেই রোগ সম্পর্কে অনেক ধারণা পাওয়া যায়। প্রাথমিক অবস্থায় ওষুধ ব্যবহার, পরবর্তী সময়ে সাইনাস ওয়াশ এবং শেষ পর্যায়ে এন্ডোস্কোপিক সাইনাস সার্জারি করে রোগটি সারানো যায়। শীতে বারবার নাকের মধ্যে প্রদাহ হয়, নাক বন্ধ থাকে বলে সাইনাসের ইনফেকশন সহজেই হতে পারে।
৫. মধ্যকর্ণে প্রদাহ: এই সমস্যা শিশুদের বেশি হয়ে থাকে। সাধারণত ঊর্ধ্ব শ্বাসনালির প্রদাহ, টনসিলের ইনফেকশন, এডিনয়েড নামক গুচ্ছ লসিকা গ্রন্থির বৃদ্ধি ইত্যাদি থেকে এই ইনফেকশন হয়ে থাকে। শীতে এ উপসর্গগুলো ব্যাপকভাবে দেখা দেওয়ার কারণে হঠাৎ করেই মধ্যকর্ণে ইনফেকশন হতে পারে। এই রোগে কানে বেশ ব্যথা হয়, কান বন্ধ মনে হয়। সঠিক সময়ে এই রোগের চিকিৎসা না করলে কানের পর্দা ফুটো হয়ে রোগটি কানপাকা রোগে রূপ নিতে পারে। অ্যান্টিবায়োটিক ও নাকের ড্রপসহ অন্যান্য ওষুধ হচ্ছে এই রোগের চিকিৎসা।
৬. মধ্যকর্ণে পানির মতো তরল জমা: এই রোগের কারণও উপসর্গ অনেকটা মধ্যকর্ণে প্রদাহের মতোই। তবে উপসর্গগুলোর তীব্রতা অনেক কম থাকে। শীতের সময় শিশুদের ঘনঘন সর্দি লাগে। বারবার সর্দি লাগার কারণে কিংবা এডিনয়েড সমস্যার জন্য দীর্ঘদিন ধরে নাক দিয়ে শ্লেষা ঝরার পরিণতিতে এই রোগ হয়ে থাকে। শীতে এর প্রকোপ বেড়ে যায়। নাকের পেছনের অংশের সঙ্গে কানের যোগাযোগ রক্ষাকারী নালিটির নাকের প্রান্তবর্তী মুখটি যদি ঠান্ডা-সর্দি কিংবা এডিনয়েডের বৃদ্ধির জন্য বন্ধ হয়ে যায়, তখন মধ্যকর্ণে তরল পদার্থ জমে যায়। অনেক সময় নালির মুখটি বন্ধ হয়ে ভেতরে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। তাতে কান বন্ধ মনে হয়। কানের মধ্যে ফরফর শব্দ করে। সাধারণ ওষুধেই এ রোগ সারে। অনেক সময় ছোট্ট অপারেশন করে মধ্যকর্ণে জমে থাকা পানি বের করে দিতে হয়। এডিনয়েড বড় থাকলে শিশুদের ক্ষেত্রে তা অপারেশন করিয়ে নিতে হয়।
৭. এডিনয়েড ও টনসিলের ইনফেকশন: শীতে গলাব্যথা হয় অনেকেরই। এই গলাব্যথার জন্য মূলত দায়ী হচ্ছে টনসিলের ইনফেকশন। এটি মূলত শিশুদের সমস্যা। বড়দেরও হয়। টনসিলের সমস্যায় গলাব্যথা, খেতে গেলে ব্যথা, সামান্য জ্বর ইত্যাদি থাকে। প্রথমত ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। বারবার হতে থাকলে সম্যক জটিলতা ও কষ্টের কথা বিবেচনা করে টনসিল অপারেশন করিয়ে নিতে হয়। সারা পৃথিবীতে শিশুদের যত অপারেশন হয়, তার মধ্যে টনসিল অপারেশনের অবস্থান সবার শীর্ষে।
নাকের ছিদ্রের পেছন দিকে যে অঞ্চলটি রয়েছে, সেখানে এই এডিনয়েড নামক লসিকা গ্রন্থির অবস্থান। এটি অনেক সময় বড় হয়ে নাক আংশিক বন্ধ করে দেয়, ফলে নাক দিয়ে অধিকাংশ সময়ই সর্দি ঝরে। কানের সঙ্গে নাকের পেছনের অংশের যোগাযোগ রক্ষাকারী টিউবটির মুখও আংশিকভাবে বন্ধ থাকে। ফলে কানও বন্ধ থাকে। কানের মধ্যে পানির মতো তরল জমে কান ব্যথা করে। এডিনয়েড বড় হলে শিশু মুখ দিয়ে শ্বাস নেয়। ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে জেগে ওঠে। রোগীর চেহারা ক্রমশ হাবাগোবা হয়ে পড়ে। অনেক অভিভাবকই এ সমস্যাটির ফলে সৃষ্ট ক্ষতি অনুধাবন করেন না। ফলে শিশুর অনেক ক্ষতি হয়। অপারেশনই হচ্ছে এর একমাত্র চিকিৎসা।
নাক, কান ও গলার এই সাতটি অসুখের ঝামেলা এড়াতে শীত থেকে রক্ষার যাবতীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশেষ করে শীতবস্ত্র-গলাবন্ধনী, মাথা ঢেকে রাখা, হাত-পায়ে মোজা পরা, ঠান্ডা এড়িয়ে চলতে হবে। সেই সঙ্গে সকালে হাত-মুখ ধোয়ায় এবং গোসলে কুসুম গরম পানি ব্যবহার করতে হবে। আর এত প্রস্তুতির পরও যদি অসুস্থতায় পেয়েই বসে, তখন পরামর্শ নিতে হবে আপনার চিকিৎসকের।
সহযোগী অধ্যাপক, নাক কান গলা বিভাগ, হলিফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
@ইন্টারনেট

Thursday, January 3, 2013

স্ট্রোক কি ????????

Posted by sofiq | 10:19 PM Categories:

স্ট্রোক একটি জরুরি স্বাস্থ্যগত অবস্থা। স্ট্রোকের দ্রুত চিকিৎসা হওয়া অতি জরুরি। কারণ স্ট্রোকের দ্রুত চিকিৎসা করা হলে মস্তিষ্কের ক্ষতি এবং স্ট্রোক সংক্রান্ত অন্যান্য জটিলতা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।


স্ট্রোক কি?
মস্তিষ্কের কোন অংশে রক্ত সরবরাহ বাধাপ্রাপ্ত হলে বা বন্ধ হলে মস্তিষ্কের কলাগুলো অক্সিজেন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদান পায় না ফলে স্ট্রোক হয়। স্ট্রোকের কিছুক্ষণের মধ্যেই মস্তিষ্কের কোষগুলো মরতে শুরু করে।

স্ট্রোক হয়েছে কি করে বুঝবেন?
স্ট্রোক হলে সাধারণত: নিচের লক্ষণ ও উপসর্গগুলো দেখা যায় :
হাঁটতে বা চলাফেরা করতে এবং ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে  সমস্যা হয় এবং মাথা ঝিমঝিম করে
কথা জড়িয়ে যায় এবং অস্পষ্ট শোনায়
শরীরের একপাশ দূর্বল, অসাড় ও প্যারালাইজড হয়ে যায়
চোখে কোন কিছু অস্পষ্ট, অন্ধকার ও দুইটি দেখা যায়
অস্বাভাবিক মাথা ব্যথার সাথে ঘাড় ব্যথা, মুখ ব্যথা, দুই চোখের মধ্যখানে ব্যথা, বমি হয়

কখন ডাক্তার দেখাবেন?
উপরোক্ত লক্ষণ ও উপসর্গগুলো দেখা দেয়ার সাথে সাথে ডাক্তার দেখাতে হবে। এছাড়া নিচের উপসর্গগুলো দেখা দিলে জরুরি অবস্থা গ্রহণ করতে হবে :
শ্বাস নেয়া বন্ধ হয়ে গেলে মুখ থেকে মুখে শ্বাস দিতে হবে
বমি হলে মাথা একদিকে কাত করতে হবে
আক্রান্ত ব্যক্তিকে কিছু খাওয়ানো বা পান করানো যাবে না

কোথায় চিকিৎসা করাবেন?
জেলা সদর হাসপাতাল
মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
বিশেষায়িত সরকারী/বেসরকারী হাসপাতাল

কি ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে?
শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা
কারোটিড আল্ট্রাসাউন্ড (Carotid Ultrasound)
কম্পিউটারাইজড টমোগ্রাফী (Computerized Tomography)
ম্যাগনেটিক রিজোন্যান্স ইমেজিং (Magnetic resonance imaging )
ইকোকারডিওগ্রাফী (Echocardiography)

কি ধরণের চিকিৎসা আছে?
স্ট্রোকের ধরণ, মাত্রা এবং রুগীর বয়সের উপর এর চিকিৎসা নির্ভর করে।

ইসেকমিক স্ট্রোক (Ischemic Stroke) এর ক্ষেত্রে?
তৎক্ষণাত চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে- রুগীকে রক্ত জমাট না হওয়ার ঔষধ সেবন করানো
স্ট্রোকের পরপরই রুগীকে এসপিরিন সেবন করানো। এটি পুনরায় স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি কমায়
শল্য চিকিৎসা

স্ট্রোক কিভাবে প্রতিরোধ করা যায়?
স্ট্রোক প্রতিরোধের সবচেয়ে ভাল উপায় হলো স্ট্রোকের ঝুঁকি সর্ম্পকে জানা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন পদ্ধতি মেনে চলা। এই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন পদ্ধতি হলো:
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা
কোলেস্টরল নিয়ন্ত্রণে রাখা
বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা
দেহের সঠিক ওজন বজায় রাখা
নিয়মিত ব্যায়াম করা
মানসিক চাপমুক্ত থাকা
ধূমপান থেকে বিরত থাকা
শিরা পথে মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন থেকে বিরত থাকা
সুষম খাদ্য গ্রহণ-বিশেষ করে শাকসব্জী, দুধ ছোট মাছ, সামুদ্রিক মাছ, ভূষি সমৃদ্ধ খাবার যেমন: ঢেকী ছাঁটা চালের ভাত, শুটকী মাছ ইত্যাদি খাওয়া

সচরাচর জিজ্ঞাসাঃ
প্রশ্ন. 1. স্ট্রোক হওয়ার কারণ কি ?
উত্তর. স্ট্রোক হওয়ার প্রধান কারণ হলো মস্তিষ্কের রক্তের সরবরাহে সমস্যা। যেমন :
ইসেকমিক স্ট্রোক (Ischemic Stroke) মস্তিষ্কে রক্তের সরবরাহ কম হলে
হেমোরেজিক স্ট্রোক (Hemorrhagic Stroke) মস্তিষ্কে রক্তের ক্ষরণ হলে

প্রশ্ন.২. স্ট্রোক কয় ধরণের হয়ে থাকে?
উত্তর. স্ট্রোক প্রধানত দুই ধরনের হয়। যেমন :
ইসেকমিক স্ট্রোক (Ischemic Stroke)
হেমোরেজিক স্ট্রোক (Hemorrhagic Stroke)

এছাড়া আরো একধরণের স্ট্রোক রয়েছে যাকে বলা হয় ট্রানজিয়েন্ট ইসেকমিক আ্যাটাক ( Transient Ischemic Attack)


প্রশ্ন.৩. কাদের স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি বেশি ?
উত্তর . যাদের স্ট্রোক হওয়ার  সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি তারা হলেন :
যাদের পরিবারে স্ট্রোক, হার্ট এ্যাটাক অথবা টিআইএ (TIA) হওয়ার ইতিহাস আছে
৫৫ বছর বা এর বেশি বয়সীদের
যাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে
যাদের বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস আছে
যারা অতিরিক্ত মোটা
যাদের হৃদপিন্ডের বিভিন্ন অসুখ যেমন-হৃদপিন্ডের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়া (Heart failure), হৃদপিন্ডের ত্রুটি (Heart defect), হৃদপিন্ডের সংক্রমণ (Heart Infection), হৃদপিন্ডের অস্বাভাবিক স্পন্দন ইত্যাদির সমস্যা আছে
যাদের আগে একবার স্ট্রোক অথবা টিআইএ হয়েছে
যারা জন্মনিয়ন্ত্রণ ঔষধ সেবন করেন অথবা অন্যান্য হরমোন থেরাপি নেন
যারা ধূমপান ও মাদক সেবন করেন

প্রশ্ন. ৪. স্ট্রোকের ফলে কি ধরণের জটিলতা দেখা দেয় ?
উত্তর. স্ট্রোকের ফলে নিচের জটিলতাগুলো দেখা দেয় :
প্যারালাইসিস অথবা মাংসপেশী অবশ হয়ে যাওয়া
খাবার গিলতে এবং কথা বলতে সমস্যা/কথা বলতে না পারা
স্মৃতি শক্তি লোপ পাওয়া এবং কোন কিছু বুঝতে পারার ক্ষেত্রে সমস্যা হওয়া
শরীরের বিভিন্ন অংশে ব্যথা করা

সুস্থ থাকতে কপি

Posted by sofiq | 9:57 PM Categories:

সুস্থ থাকতে কপি

·      








* কপি স্তনের দুধ বাড়িয়ে  দেয়, মধুর, বীর্যবর্ধক, শীতল, দীপন (কর্মপ্রেরণা দেয়, উদ্দীপ্ত করে),  সহজে হজম হয়, বাত সৃষ্টি করে এবং পিত্ত ও কফ নাশ করে।
*     ফুলকপি ও বাঁধাকপি রসে মধুর, বিপাকে তিক্ত, শীতল করে, লঘু দীপন (উদ্দীপ্ত করে), পাচন (সহজে হজম হয়), কামোত্তেজক, হার্টের পক্ষে ভালো, মল মূত্র প্রবর্তক এবং বাতকারক।
*      কপি কফ, পিত্ত, জ্বর, প্রমেহ (যৌনব্যাধি) মূত্রকূচ্ছ (প্রস্রাব কম হওয়া)  কুষ্ঠ, কাশি, শ্বাসকষ্ট, রক্তের দোষ (রক্তবিকার), লিভার বেড়ে যাওয়া রোগ, পিত্তের প্রকোপ এবং শরীরের ভেতরের ফোঁড়া বা দুষ্ট ব্রণ নাশ করে।
*      গর্ভাশয়ের বল বৃদ্ধি করে।
*   গাঁট কপি বা ওল কপি (যানে নকলল ) ইহা রসে মধুর, উষ্ণবীর্য। (উগ্রগুণ সম্পন্ন করা), সারক ( মলমূত্র ও বায়ু নিস্কাষণ করে), রুচিকর, গুরু (হজম দেরিতে হয়), কফনাশক, বাতকারক এবং পিত্ত প্রকোপক।
*      কপির বীজ সারক ( বায়ু ও মল-মুত্র নিস্কাশনের সাহায্য করে) কর্মে উদ্দীপক করে (দীপন) পাচন (সহজে হজম হয়) এবং কৃমিনাশক।
*    যারা রক্তপিত্ত (স্কার্ভি) রোগে ভুগছেন তাদের কপি খাওয়া ভালো।

পুষ্টিগুন
 ফুল কপিতে ভিটামিন বি, ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম ও জিংক আছে।


       পুষ্টির তালিকায়ঃ প্রতি ১০০গ্রাম কপিতে  আছে-
কার্বোহাইড্রেট-                   ৪ গ্রাম.
ক্যালসিয়াম-                  ৩৩মিগ্রা.
প্রোটিন-                         ২.৬গ্রাম.
ফসফরাস-                     ৫৭ মিগ্রা.
ফ্যাট-                          ০.৬ গ্রাম.
লোহা-                         ১.৫ মিগ্রা.
আঁশ-
পটাশিয়াম-                  ১৩৮ মিগ্রা.
ভিটামিন- ‌‘এ’ -৫১ আই. ইউ
সোডিয়াম-                     ৫৩মিগ্রা.
নিকোটিনিক অ্যাসিড-         ১ মিগ্রা
ভিটামিন- ‘সি’-               ৫৫মিগ্রা.



সাইনুসাইটিসের ঘরোয়া চিকিৎসা!









রসুন: প্রতিদিন ২-৪ কোয়া রসুন ২ চা চামচ মধুর সঙ্গে দিনে ২ বার।

পেঁয়াজ : প্রতিদিন ১ চা চামচ পেঁয়াজ রস ১ চা চামচ মধুর সঙ্গে।

গোলমরিচ : ৫ গ্রাম গোলমরিচ চূর্ণ ১ গ্লাস গরম দুধের সঙ্গে।

আদা : নিয়মিত আদার রস ১ চা চামচ সঙ্গে ১ চামচ মধুসহ।

Wednesday, January 2, 2013

আদা খেলে শরীলের যে উপকার গুলো হয়ঃ
                                                    ১. আদা মল পরিস্কার করে, ভারী, উষ্ণ, খিদে বাড়ায়, পাকে মধুর রুক্ষ, রায়ু ও কফ দূর করে।
২. আদার রস শরীর শীতল করে, মধুর তীক্ষন, এবং হার্টের পক্ষে ভালো।
৩. হৃদরোগ ও শরীরের ভেতরে বায়ু ও আমাশা সারিয়ে তোলে।
১. আদার রস খেলে আহারে রুচি আসে এবং ক্ষুধা বাড়ে।
৪. আদার রসে মধু মিশিয়ে খেলে কাশি সারে।
৫. আদা মল পরিষ্কার করে।
৬. আদার রসে পেটব্যথা কমে।
৭. আদা পাকস'লী ও লিভারের শক্তি বাড়ায়।
৮. আদা স্মৃতিশক্তি বাড়ায়।
৯. আদার রস শরীর শীতল করে।
১০. আদা রক্তশূন্যতা দূর করে।

হজম শক্তির জন্য আদাঃ
১। আদা কাজি বা পানীয় লবণ মিশিয়ে পান করলে খাবার তাড়াতাড়ি হজম হয়। খিদে বেড়ে যায়, কোষ্ঠবদ্ধতা দূর হয় এবং আমাশা সারে।
২। আদা খেলে মুখে থুতু বা লালা উৎপন্ন হয়। এই লালা বা (স্যালাইভা) খাবার হজম তাড়াতাড়ি করতে সাহায্য করে, সেজন্য অরুচি ও অখিদে দূর করতে আদা খাওয়া জরুলী।
৩। ভোজনের আগে আদা-লবণ সর্বদাই পথ্য। বিশেষত বর্ষা ো শীতে এভাবে আদা খাওয়া শরীরের পক্ষে হিতকর।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে আদাঃ
আদা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে। এটি মানুষের রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে ডায়াবেটিস রোগের উপশম হয়। সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা সম্প্রতি এসব তথ্য দিয়েছেন। ডায়াবেটিস রোগের চিকিত্সায় আদার কোনো উপকারিতা আছে কি না তা নিয়ে গবেষণা করেন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের একদল গবেষক। অধ্যাপক বাসিল রৌফোগালিস এতে নেতৃত্ব দেন। গবেষণায় বেরিয়ে আসে যে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখে আদা। গ্লুকোজ রোগীর শরীরে নানা জটিলতা বাড়ায়। আদার নির্যাস শরীরের কোষে গ্লুকোজের শোষণক্ষমতা বৃদ্ধি করে, যা ডায়াবেটিস রোগীর রক্তে দীর্ঘমেয়াদে সুগারের স্তর ঠিক রাখতে ভূমিকা রাখে এবং কোষগুলোতে নির্বিঘ্নে ইনসুলিনের চলাচল ঠিক রাখে। ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষেত্রে সাধারণ অবস্থায় রক্তে গ্লুকোজের স্তর নিম্নমাত্রায় থাকে। ফলে নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে হয়। আদার রস সেই স্তরের বৃদ্ধি ঘটায়। পেশির কোষগুলোতে গ্লুকোজের ধারণক্ষমতা বাড়ায়। ফলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে।
রুচি বাড়ানোর জন্য আদাঃ
১.আদার রস, পাতিলেবুর রস ও লবণ বা শুধু লবণ শিশিয়ে খেলে মুখশুদ্ধি হয়। খিদে বাড়ে, রুচিকর, সায়ক (অর্থাৎ  বদ্ধ বায়ু ও মল নিঃসারণ করে) খেতে ভালো লাগে, বায়ু ও কফ নাশ করে। ফোলা, মন্দাগ্নি সারিয়ে দেয় তা নয়; ধাতু ও বৃদ্ধি করে।

  • RSS
  • Delicious
  • Digg
  • Facebook
  • Twitter
  • Linkedin
  • Youtube