Saturday, January 5, 2013


শাপলা বাংলাদেশের জাতীয় ফুল। যখন ছোট ছিলাম মামার বাড়ী বেড়াতে গেলে মামাদের সেই তালের ডিঙ্গী অথবা নৌকায় করে বের হতাম শাপলা ফুলের ফল (ঢেপ) সংগ্রহ করে খেতে। বেশ মজা লাগতো। গ্রামে গঞ্জে এখনও শাপলার তরকারী করে অনেকেই খায়।
শাপলা সাধারণত জলজ উদ্ভিদ। কান্ড মাটির নিচে থাকে যা শালুক নামে পরিচিত। এর পাতা লম্বা বোঁটাযুক্ত এবং পানির উপর ভাসমান থাকে। কান্ড থেকে লম্বা ডাটা যুক্ত ফুলের কলি বের হয়। লাল শাপলা ও সাদা শাপলা বেশী দেখা
যায়। তবে নীল রঙের ভিন্ন প্রজাতির শাপলাও পাওয়া যায়। পাতার গোঁড়ার দিক হৃদপিন্ডাকৃতির এবং পাতার কিনারা ঢেউ খেলানো। ফলগুলো স্পঞ্জের মত দেখতে এবং ফলের ভিতর অনেকগুলো কোষ। প্রতিটি কোষে সরিষার ন্যায় বীজ থাকে। সাদা শাপলা আমাদের জাতীয় ফুল। শাপলার ফল দিয়ে মজাদার খই তৈরি হয়।
বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্র, খাল, বিল, পুকুর, ডোবায় পাওয়া যায়। বীজ থেকেও চারা করা যায়।
শাপলার পরিচিতি-
প্রচলিত নাম- শাপলা
ইউনানী নাম- নিলুফর
আয়ুর্বেদিক নাম- নীলোৎপল
ইংরেজী নাম- Water Lily
বৈজ্ঞানিক নাম- Nymphaea nouchail Burm.F
পরিবার- Nymphaeaceae
শাপলাতে গ্যালিক এসিড ও তার বিভিন্ন যৌগ, ফ্লেভনল গ্লাইকোসাইড ও লিগনিন বিদ্যমান। সাধারণত ফুল ও রাইজোম মানবদেহের বিভিন্ন রোগে যেমন- স্নিগ্ধ কারক, শীতল কারক, পিত্ত প্রশমক, হৃদযন্ত্রের শক্তি কারক ও পিপাসা নিবারক। তাছাড়া প্রসাবের জ্বালা পোড়া, আমাশয় ও পেট ফাঁপায় উপকারী। রোগ অনুসারে নিচের পদ্ধতি অবলম্বনে অনেক উপকারে আসবে যেমন-
• প্রসাবের জ্বালা পোড়া ও পিত্তাধিক্য রোগে শাপলা ফুলের শুকনো অংশ ১০-১৫ গ্রাম পাঁচ গ্রাম ধনিয়া আধা চূর্ণ করে, দুই কাপ পানিতে মিশিয়ে জ্বাল করে ছেঁকে নিয়ে প্রয়োজন মত চিনি সহ দিনে ২ বার ১৫-২০ দিন খেলে উপকার হবে।
• হৃদযন্ত্রের দুর্বলতায় ও হৃদকম্পে রোগের জন্য শাপলা ফুল ১০ গ্রাম, সাথে পাঁচ গ্রাম গোলাপ ফুল মিশিয়ে দুই কাপ পানিতে জ্বাল করে ছেঁকে নিয়ে প্রয়োজন মত চিনি মিশিয়ে প্রতিদিন ২ বার এভাবে ১ মাস নিয়মিত খেলে বিশেষ উপকারে আসবে।
• পিপাসা নিবারনের জন্য শাপলা ফুলের শুকনো অংশ ১০-১২ গ্রাম এক কাপ পানিতে জ্বাল করে ছেঁকে নিয়ে প্রয়োজন মত চিনি মিশিয়ে দিনে ২ বার এভাবে ১ মাস খেলে উপকার হবে।

বাতাবি লেবুর উপকারিতা

Posted by sofiq | 7:09 AM Categories:

ভিটামিন 'সি'-সমৃদ্ধ দেশি ফল বাতাবি লেবু। অঞ্চলভেদে কোনো স্থানে বাতাবি লেবুকে আবার জাম্বুরা বলে। বাতাবি লেবু ভারত, চীন, জাপান, ফিজি, দক্ষিণ আফ্রিকা, এমনকি আমেরিকায়ও উৎপন্ন হয়। স্থানভেদে বাতাবি লেবু বা জাম্বুরার ভেতরের রসাল ক
োষগুলো হলুদ, লাল, গোলাপি হয়ে থাকে। ভেতরের রসাল কোষগুলোর ঘনত্ব বেশি এবং খুব সহজেই রস বা জুস তৈরি করা যায়।

@ পুষ্টিগুণ @
প্রতি ১০০ গ্রাম বাতাবি লেবুর মধ্যে ক্যালোরি আছে ৩৭ কিলো ক্যালোরি, শর্করা ৯.২ গ্রাম, মুক্ত চিনি থাকে ৭ গ্রাম, সামান্য খাদ্যআঁশ, প্রোটিন ও ফ্যাট বর্তমান। বিটা ক্যারোটিনের পরিমাণ ১২০ মা.গ্রা., ভিটামিন ৬০ গ্রাম, ভিটামিন 'বি'ও থাকে। ক্যালরি কম থাকায় ডায়াবেটিস ও স্থুলকায়দের জন্য খুবই উপকারী ফল।

@ উপকারিতা @
* এসিডিটি বা গ্যাস প্রতিহত করে।
* বায়োফ্লভনয়েড বেশি থাকায় ব্রেস্ট ক্যান্সারের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।
* ভিটামিন 'সি' বেশি থাকায় রক্তনালির সংকোচন-প্রসারণ ক্ষমতা বাড়ায়।
* ডায়াবেটিস, জ্বর, নিদ্রাহীনতা, মুখের ভেতরে ঘা, পাকস্থলী ও অগ্ন্যাশয়ের বিভিন্ন রোগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
* কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে, সেই সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের হৃদরোগের হাত থেকে রক্ষা করে।
* ওজন কমানোয়ও বিশেষ ভূমিকা রাখে।
* রক্ত পরিষ্কারের ক্ষমতা থাকায় দেহে কোনো ধরনের বিষাক্ত উপাদান প্রবেশ করলে ধ্বংস করতে পারে।
* প্রতিদিন এক গ্লাস করে বাতাবি লেবু জুস করে খেলে ক্যান্সার প্রতিরোধে কাজ করে।

করলা উপকারিতা

Posted by sofiq | 7:07 AM Categories:

খাবারের টেবিলে বসে মেন্যুতে তেতো করলা দেখলেই আমাদের মুখটা ব্যাজার হয়ে যায়। সবকিছুর মতো ডায়েটে তেতো রাখাটা দরকার, বিশেষ করে করলা শরীরের পক্ষে খুবই ভালো। করলার তেতো যদি খুব বেশি হয়, তাহলে তেতোভাব কমানো জন্য রান্না করার আগে কিছুক্ষণ
লবণ পানিতে ভিজিয়ে রাখুন।








@ করলাতে রয়েছে @
►করলাতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন রয়েছে। আয়রন হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে সাহায্য করে।
►কলার দ্বিগুণ পটাশিয়াম ও পালংশাকের দ্বিগুণ পরিমাণে ক্যালশিয়াম করলাতে রয়েছে। দাঁত ও হাঁড় ভালো রাখার জন্য ক্যালসিয়াম খুবই জরুরি। ব্লাড প্রেসার মেইনটেইন করার জন্য ও হার্ট ভালো রাখার জন্য পটাশিয়াম প্রয়োজন।
►করলাতে যথেষ্ট পরিমাণে বিটা ক্যারোটিন রয়েছে। দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে ও চোখের সমস্যা সমাধানে বিটা ক্যারোটিন খুবই উপকারী।
►করলাতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে। ভিটামিন সি ত্বক ও চুল ভালো রাখার জন্য একান্ত জরুরি। ভিটামিন সি প্রোটিন ও আয়রন অ্যাবজর্বশনে সাহায্য করে। ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে।
► করলাতে রয়েছে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, ম্যাগনেশিয়াম, ফলিস এসিড, জিঙ্ক, ফসফরাস, ম্যাগনেশিয়াম।
► ডায়েটারি ফাইবার-সমৃদ্ধ করলা কনস্টিপেশনের সমস্যা কমায়।

@ অসুখ নিরাময়ে সাহায্য করে @
ডায়াবেটিসের পেশেন্টের ডায়েটে করলা রাখুন। করলাতে রয়েছে পলিপেপটাইড পি ব্লাড ও ইউরিন সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে করলা বা করলার রস অথবা করলা সিদ্ধ খেতে পারেন।
►নানা রকমের ব্লাড ডিজঅর্ডার যেমন স্ক্যাবিজ, রিং ওয়র্ম-এর সমস্যায় করলা খুবই উপকারী। করলা ব্লাড ফিউরিফিকেশনে সাহায্য করে।
► করলা স্কিনের সমস্যা ও ইনফেকশন প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

@ করলা পাতার রসের উপকারিতা @
► করলা পাতার রস খুবই উপকারী। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে। নানা ধরনের ইনফেকশন থেকে সুরক্ষা প্রদান করে। এনার্জি ও স্ট্যামিনা বাড়িয়ে তুলতেও করলা পাতার রস সাহায্য করে।
►করলা পাতার রস শরীর থেকে অতিরিক্ত টক্সিন ফ্ল্যাশ আউট করতে সাহায্য করে।
►ডায়রিয়া বা কলেরার প্রথম পর্যায়ে করলা পাতার রস খেতে শুরু করলে ভালো।
►অ্যাজমা, ব্রঙ্কাইটিস ও ফ্যারেনজাইটিসের মতো সমস্যা কমাতে করলা পাতার রসে মধু মিশিয়ে খেতে পারেন।
►করলা পাতার রস সোরিয়াসিসের সমস্যা, ফাংগাল ইনফেকশন প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

আপেলে ক্যান্সার দূর?

Posted by sofiq | 2:16 AM Categories:

শীতের ফলও আসতে শুরু করেছে বাজারে। তেমনি একটি শীতের ফল হলো আপেল। এসময়  আপেলে একটু কামড় দিতে কার না ইচ্ছে হয় বলুন। তবে জানেন কি, এই আপেল কমিয়ে দিতে পারে আপনার ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা? ভারতের জওহরলাল নেহেরু ইউনিভার্সিটির ক্যান্সার বায়োলজি ল্যাবরেটরির একদল গবেষক সম্প্রতি আবিষ্কার করেছেন এই চমকপ্রদ তথ্য।

গবেষকদলের প্রধান এবং জওহরলাল নেহেরু ইউনিভার্সিটির ক্যান্সার বায়োলজি ল্যাবরেটরির সহযোগী অধ্যাপক রানা পি. সিং এই বিষয়ে বলেন, “ক্যান্সার কোষ প্রতিরোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ফিসেটিন। এটি মানুষের দেহে টিউমার তৈরিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। আপেলে প্রচুর পরিমাণে থাকে এই ফিসেটিন। তাই প্রাথমিকভাবে বলা যায় আপেল আমাদের দেহে ক্যান্সার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম। তবে এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।”

গবেষনায় আরও জানা যায় যে, ফিসেটিন মানবদেহে ক্যান্সার প্রতিরোধী কেমোপ্রিভেনশন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে। ফলে মানুষের দেহে ক্যান্সার কোষ থেকে টিউমার সৃষ্টি রোধ করা সম্ভব হয়।

বর্তমানে বিশ্বব্যাপী মানুষের মাঝে ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হওয়ার হার আশংকাজনকভাবে বেড়ে গেছে। তবে সেই সাথে পাল্লা দিয়ে ক্যান্সার চিকিৎসায়ও এসেছে উন্নতি। এখন বিজ্ঞানীরা প্রাকৃতিক উৎস থেকে ক্যান্সার প্রতিরোধী উপাদান তৈরির চেষ্টা করছেন। সেই ধারাবাহিকতায়ই করা হয়েছে সাম্প্রতিক এই গবেষণাটি। এর ফলাফল একটি আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিতও হয়েছে।


এবার তাহলে নিশ্চিন্তে খান আপেল।

পালংশাক শীতকালীন শাক। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। এই ভিটামিন মানুষের দেহে জমা থাকে না বা তৈরিও হয় না। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি হয়ে গেলে মূত্রের মাধ্যমে শরীরের বাইরে চলে যায়। ভিটামিন ‘সি’ প্রতিদিন খাওয়া উচিত। ভিটামিন ‘এ’ রয়েছে এই শাকে, যা চোখের ভেতর ও বাইরের অংশগুলোতে পুষ্টি জোগায়। অকাল অন্ধত্ব থেকে রক্ষা করে চোখকে। মাত্রাতিরিক্ত ভিটামিন এ-এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়।

গর্ভবতী মায়েদের জন্য পালংশাক ভীষণ উপকারী। এতে নেই কোনো চিনির পরিমাণ। তাই মাতৃত্বকালীন ডায়াবেটিস বা ওজন খুব বেশি এমন ব্যক্তিদের জন্য এই শাক নিরাপদ। কচি পালংশাকের স্যুপ দেহে জোগায় অফুরন্ত শক্তি। শরীরের শিরা-উপশিরায় এই শাকের উপাদানগুলো মিশে ত্বকে পুষ্টি জোগায়। চুল পড়া রোধ করে। ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। গর্ভস্থ শিশুর মেধা বিকাশে এই শাকের গুরুত্ব অপরিসীম।
পালংশাকের ডাঁটায় রয়েছে ডায়াটারি, ফাইবার বা আঁশ-জাতীয় উপাদান, যা খাবার হজমে সাহায্য করে, পেটে গ্যাসের পরিমাণ কমায়, রোধ করে পাকস্থলীসহ পেটের যাবতীয় অঙ্গের ক্যানসার। শীতকালের রোদে থাকে আলট্রাভায়োলেট রশ্মি, যা ত্বকের জন্য খুব ক্ষতিকর। এই ক্ষতির হাত থেকে বাঁচায় পালংশাক।

এতে আয়রনও আছে পর্যাপ্ত পরিমাণে, যা গর্ভবতী মা, বয়োবৃদ্ধসহ সবার জন্য যথেষ্ট উপকারী। খানিক লবণ আমাদের দাঁত, ঘাড়, চুলকে করে মজবুত। পালংশাকে খানিক লবণও রয়েছে কিন্তু কিছু পরিমাণে। তবে এই শাকের খনিজ লবণ উচ্চ রক্তচাপ বাড়ায় না। তাই হাই ব্লাড প্রেসারের রোগীরা খেতে পারেন এই শাক। যেসব শিশু খিচুড়ি খায়, তাদের খিচুড়িতে সামান্য পালং পাতা দিতে পারেন। এতে শিশুর শরীরে ভিটামিন ‘সি’ ও ‘এ’র ঘাটতি পূরণ হবে। টাটকা ও কম তেল, মসলা দিয়ে রান্না করে খাওয়াই উত্তম। শাক সবাই রাতে হজম করতে পারেন না। নিজের হজম ক্ষমতা বুঝে খাওয়াই ভালো। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে শাকের ভূমিকা অপরিসীম। তারুণ্য বজায় রাখতে এই শাক হোক আপনার শীতকালীন সঙ্গী। পালংশাকে রয়েছে অ্যান্টি এজিং ফ্যাক্টর, অর্থাৎ যে উপাদানটি বয়স বৃদ্ধিজনিত জটিলতাগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।

ক্যালসিয়াম-কেন-খাবেন

Posted by sofiq | 2:06 AM Categories:

আমরা প্রাত্যহিক খাদ্য তালিকায় বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য রাখি না। সেটা জ্ঞাতসারেও হতে পারে আবার অজ্ঞাতেও। কেউ কেউ আবার এ ব্যাপারে খুব একটা ভাবতেও আগ্রহী হন না। আর উঠতি বয়সী বা যৌবনের এলাকাতে বসবাসকারীরা তো আরো উদাসীন।

অনেকে নিজের অজান্তে ক্যালসিয়ামের অভাবে ভুগছেন। আর যখন তারা ক্যালসিয়াম গ্রহণে আগ্রহী হন, তখন বেশ অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যায়।

দেহে ক্যালসিয়ামের কার্যকারিতা অনেক। যেমন এটা হাড় মজবুত করে, পেশির সংকোচন এবং হৃদযন্ত্রের ক্রিয়াকলাপ ঠিক রাখে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে, হরমোন নি:সরণ ও দেহের বিভিন্ন রকম কোষের বিভাজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, দেহের ভেতরে রক্ত জমাট বাঁধতে দেয় না এবং কোথাও কেটে বা ছিঁড়ে গেলে সেখানে রক্ত জমাট বাঁধতে সহায়তা করে; রসায়নিক দূষণ থেকে দেহকে রক্ষা করে। ভারী ধাতুর বিষক্রিয়া থেকে দেহকে বাঁচাতে ক্যালসিয়াম অন্যতম উপাদান। বিশেষত যাঁরা কলকারখানায় কর্মরত বা শিল্প এলাকায় বসবাস করেন। ঢাকার মতো যেসব শহরে হাওয়া বিপুল পরিমাণ সিসা ঘুরে বেড়ায়, সেসব শহরের মানুষের নিয়মিত ক্যালসিয়াম খাওয়া প্রয়োজন; অগ্ন্যাশয়ের বিটা শেষে ইনসুলিন ভরতে সাহায্য করে ফলে ডায়াবেটিস এবং এর কারণে চোখ, কিডনি, হৃদযন্ত্র বা ত্বকের সমস্যা থেকে মানুষকে রক্ষা করতে পারে।

দেহের ভেতরে ক্যালশিয়ামের মূল আবাস হল হাড় ও দাঁত। একই সঙ্গে রক্তেও কিছু পরিমাণ ক্যালসিয়াম থাকে। রক্তে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ নির্দিষ্ট মাত্রায় নিয়ন্ত্রিত হওয়া জরুরি। কেননা, এখান থেকেই শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ক্যালসিয়াম বণ্টন হয়।। রক্তে ক্যালশিয়ামের মাত্রা কমে শরীরের চাহিদা মেটাতে হাড়ে সঞ্চিত ক্যালসিয়াম রক্তে আসতে থাকে যার ফলে হাঁড় ক্ষয় শুরু হয়। রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা ঠিক রাখতে হাড় ও দাঁত মজবুত থাকে।

মেয়েদের বেশি করে ক্যালসিয়ামের প্রয়োজন হয়। কারণ অস্থিতে ক্যালসিয়ামের সমতা বজায় রাখে হরমোন। হরমোনের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার তারতম্যের জন্য ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের ক্যালসিয়ামের ঘাটতি বেশি করে হয়।

খনিজ পদার্থ ও কোষ-কলা অন্থির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এ দু’উপাদানের উৎপত্তি এবং ক্ষয়ের প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রিত হয় হরমোন ও ভিটামিন ডি দ্বারা।

জন্মবিরতিকরণ বড়ি ক্যালসিয়ামের ঘাটতির কারণ হতে পারে। তাই এসব বড়ি খাবারর বড়িও নিয়মিত খেয়ে যাওয়া উচিত।

অন্থি ক্ষয় ও অন্থি তৈরির প্রক্রিয়ার মধ্যে ভারসাম্য হানি ঘটার কারণেই অস্টিও পোরোসিসের সূত্রপাত হয়। ফলে সামান্য আঘাতেই হাড়ে চিড় ধরা, হাড় ভাঙা থেকে শুরু করে একেবারে চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এত নি:শব্দে এর আগমন ঘটে যে, আমরা বুঝতেই পারি না আমাদের ক্যালসিয়াম ঘাটতির কথা।


নিয়মিত বেশি পরিমাণে প্রাণিজ আমিষ ও স্নেহ জাতীয় খাদ্য ডায়েটারি ফ্যাট। রক্তে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। প্রাণিজ আমিষ শরীরে প্রচুর ফসফো উৎপন্ন করে যা ফলশ্র“তিতে প্রস্রাবের সঙ্গে ক্যালসিয়ামকে বের করে দেয়। বিশেষভাবে তৈরি ও সংরক্ষণ করা খাদ্যদ্রব্য ও একই কাজ করে।

দৈনিক ২০০ মিলিগ্রামের কম ক্যালসিয়াম গ্রহণ করলে শরীরে ক্যালশিয়ামের ঘাটতি দেখা দিবে। স্বাভাবিকভাবে নিয়মিত সুষম খাদ্য খেলে শরীরের ক্যালসিয়ামের চাহিদা মিটে যায়। বাইরে থেকে ক্যালসিয়াম দেবার প্রয়োজন পড়ে না। বেড়ে উঠার সময় অর্থাৎ ১৫ বা ৩০ বছর পর্যন্ত যথেষ্ট পরিমাণে ক্যালসিয়াম প্রয়োজন হয়।

তবে কিডনির সমস্যা, কিডনি বা মূত্রাশয়ে পাথর থাকলে ক্যালসিয়াম বড়ি খাবেন না।
কোষ্ঠকাঠিন্য ও জনশূন্যতায় ভুগলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ক্যালসিয়াম খাবেন না।
ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম যৌথভাবে কাজ করে। তাই ক্যালসিয়াম বেশি গ্রহণ করলে ম্যাগনেশিয়ামের চাহিদা বেড়ে আর এর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।


 প্রতিদিন এক গ্লাস কমলার রস ত্বক এবং চুলের শ্রীবৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। সম্প্রতি সিইডব্লিউ’র প্রায় ২০০ ত্বক বিশেষজ্ঞের ওপর চালানো এক জরিপে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

আমরা সবাই জানি কমলায় ভিটামিন সি, পটাসিয়াম এবং ফলিক এসিড আছে। কিন্তু এটা কি জানি যে, ২০০ মিলির এক গ্লাস কমলার রসে ৬০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি থাকে যা একজন প্রাপ্তবয়স্কের প্রাত্যহিক খাদ্য চাহিদার সমান? আঁশালো প্রোটিন উৎপাদনে ভিটামিন সি অপরিহার্য ভূমিকা রাখে।

সিইডব্লিউ যুক্তরাজ্য শাখার বোর্ড পরিচালক সুসান মেহি বলেন, সূর্যের কারণে ত্বকের তি কমিয়ে আনতে এবং ত্বকের নমনীয়তা বৃদ্ধিতে কমলার রস অপরিহার্য। এটি যেমন আপনার স্বাস্থ্যকর ত্বক এবং চুলের নিশ্চয়তা দিতে পারে, ঠিক তেমনি এটা আপনার প্রতিদিনের ডায়েটের অংশও হতে পারে।

এদিকে জরিপের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে ৬৫ শতাংশ ত্বক বিশেষজ্ঞরা তাদের গ্রাহকদের নিয়মিত কমলার রস পান করার পরামর্শ দিয়েছেন।

ফুলকপিতে রয়েছে ভিটামিন ‘বি’, ‘সি’ ও ‘কে’, যা ঠাণ্ডাজনিত সর্দি, হাঁচি, কাশি, জ্বর জ্বর ভাব, সারা শরীরে ব্যথা ভাব, নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া ও ঠান্ডায় কান বন্ধ হয়ে যাওয়া—এসব সমস্যা দূর করে।

অকালে দাঁত লালচে হয়ে যাওয়া ও দাঁতের মাড়ি দুর্বল হওয়া—এই অবস্থা দূর করে ক্যালসিয়াম ও ফ্লুরাইড, যেগুলোর বসতি ফুলকপিতে। দাঁতের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি ও বাড়ন্ত শিশুদের দাঁতের পূর্ণ বিকাশের জন্য ক্যালসিয়াম যথেষ্ট উপকারী।

এই সবজিতে আয়রন রয়েছে উচ্চমাত্রায়। রক্ত তৈরিতে আয়রন রাখে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। গর্ভবতী মা, বাড়ন্ত শিশু ও অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম করা মানুষের জন্য ফুলকপি জরুরি।

ফুলকপিতে নেই কোনো চর্বি, রয়েছে পর্যাপ্ত আমিষ। দেহ গঠনের জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত আমিষ। কোলেস্টেরল মুক্ত ফুলকপি তাই বৃদ্ধি ও বর্ধনের জন্য প্রয়োজন।

প্রচুর পরিমাণে আমিষ বা প্রোটিন থাকার জন্য কিডনির জটিলতায় ভোগা ব্যক্তিরা চিকিৎসকের পরামর্শে ফুলকপি খাবেন। কারণ, এতে আমিষ ও পটাশিয়াম রয়েছে অনেক বেশি, যা কিডনির জন্য উপযোগী নয়।

জিবে ঘা হয় ভিটামিন ‘বি’ ও ‘সি’র অভাবে। তালুর (ওপর ও নিচের অংশের) চামড়া উঠে যাওয়া বা ছিঁড়ে যাওয়ার জন্যও এই দুটি ভিটামিনের ঘাটতিই দায়ী। এই ঘাটতিগুলো পূরণ করবে ফুলকপি।

ক্যানসারের জীবাণুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ফুলকপি। স্তন ক্যানসার, কোলন ও মূত্রথলির ক্যানসারের জীবাণুকে ধ্বংস করে এই সবজি। ক্যানসারের জীবাণুকে দেহ থেকে বাইরে বের করে দেওয়ার জন্য রয়েছে ফুলকপির যথেষ্ট অবদান।
  • RSS
  • Delicious
  • Digg
  • Facebook
  • Twitter
  • Linkedin
  • Youtube